গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলার ৪ নং সাহাপাড়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের খামার পীরগাছা গ্রামে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী খামার পীরগাছা পূর্বপাড়া জামে মসজিদ। প্রায় শত বছরের পুরোনো এই মসজিদটি এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদত-বন্দেগি, ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম কেন্দ্র।
১৯২৫ সাল থেকে পথচলা: ১৯২৫ সালে খামার পীরগাছা গ্রামে মসজিদটির প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় মুসল্লি, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতায় মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীর পথচলায় মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং এলাকার মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
২০১৭ সালে নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ: মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনায় ২০১৭ সালে তিনতলা ভবনের ভিত্তি দিয়ে নতুন মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তিনতলা ভবনের ভিত্তি দেওয়া হলেও অর্থের সীমাবদ্ধতা ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে আজ পর্যন্ত মসজিদের প্রথম তলার নির্মাণকাজও সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী, মুসল্লি, প্রবাসী ভাই এবং বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তির সহযোগিতায় ধাপে ধাপে মসজিদের নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ করতে এবং মসজিদটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।
বর্তমানে যে কাজগুলো বাকি রয়েছে: মসজিদের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে প্রয়োজন - ১. প্রথম তলার বারান্দার কাজ ২. মিনার নির্মাণের কাজ ৩. মেঝেতে টাইলস স্থাপন ৪. মসজিদের ভিতরের পিলারে টাইলস লাগানো ৫. মসজিদের ভিতর ও বাহিরের রংয়ের কাজ ৬. বিদ্যুৎ বা কারেন্টের প্রয়োজনীয় কাজ ৭. অজুখানা নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় কাজ ৮. অন্যান্য আনুষঙ্গিক ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
প্রবাসীসহ সকলের প্রতি আন্তরিক আহ্বান: ২০১৭ সালে তিনতলা মসজিদের স্বপ্ন নিয়ে যে কাজ শুরু হয়েছিল, প্রায় এক দশক পার হলেও আজও প্রথম তলার নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এটি আমাদের সকলের জন্য একটি অসম্পূর্ণ স্বপ্ন।
তাই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভাই-বোন, এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ব্যবসায়ী, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং সকল শুভাকাঙ্ক্ষীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান— আপনারা আপনাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই মহৎ কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। আপনার দেওয়া সামান্য সহযোগিতাও হতে পারে এই অসমাপ্ত মসজিদের একটি কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যম।
আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের শত বছরের পুরোনো মসজিদটির অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করি। আমাদের আজকের সহযোগিতাই আগামী প্রজন্মের জন্য রেখে যাবে একটি সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের স্থান।
মসজিদ আমাদের, দায়িত্বও আমাদের।
আল্লাহর ঘরের কাজে শরিক হোন, সাদাকায়ে জারিয়ার অংশীদার হোন। আল্লাহ তায়ালা সকল দাতা ও সহযোগীর দান কবুল করুন এবং এই মসজিদের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।